ঈদ-সেমাই-সম্প্রীতি

Eid_iiii_07072016ইসলাম সাম্য-মৈত্রী, শান্তি-সম্প্রীতির ধর্ম।ইসলাম অন্যায় অত্যাচারকে কোন অবস্থাতেই প্রশ্রয় দেয় না। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে ‘লা তুফসিদুল ফীল আরদ্’ অর্থাৎ দুনিয়ায় অশান্তি সৃষ্টি করো না। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে, একজন মানুষকে হত্যা করা দুনিয়ার সব মানুষকে হত্যা করার সমান। আর কেউ যদি কারোর প্রাণ রক্ষা করে তাহলে সেটা দুনিয়ার সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করার সমান (সূরা মায়িদা : আয়াত ৩১)।

ঈদ মানব কল্যানের বার্তা বয়ে আনে বার বার। সেই কারনে ঈদের আর্থসামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।ঈদের সামাজিক অর্থ উৎসব আর আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন। তাই প্রতি বছরই মুসলমানদের জীবনের ফিরে আসে খুশির ঈদ। প্রথমটি উদযাপিত হয় দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনার পর। যাকে আমরা ঈদ-উল-ফিতর বা রোজার ঈদ বলি। আর দ্বিতীয়টি আত্মত্যাগের কোরবানীর ঈদ বা ঈদ-উল-আজহা। এই দুটি ঈদই মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

দুটি ঈদই খুবই জাঁকজমকের সাথে উৎসবমূখর পরিবেশে পালিত হয়। সবাই এ দিন যার যার সাধ্যানুযায়ী ভালো পোশাক পরে। ঘরে ঘরে উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করে। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরাও এ আনন্দের অংশীদার হয়। দরিদ্র ও গরিবরাও এ দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদা আনন্দের সাথে পালন করে। মুসলমানেরা এ দিন কৃতজ্ঞচিত্তে খুতবাসহ ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। আত্মীয়-স্বজনের সাথে কুশল বিনিময় করেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই কোলাকুলিসহ সালাম ও শুভেচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেয়।

ঈদ মানেই আনন্দ। ইসলাম শ্রেণী বিভেদের কথা বলে না।ঈদের নামাজে দাঁড়ালে ধনী-গরিব মিলেমিশে একাকার। নামাজ শেষে  জাঁকজমকের সাথে শুরু হয় উৎসব। এ দিন নিজের সাধ্যানুযায়ী ভালো পোশাক পরে। নানান খাবারের আয়োজন হয়।ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোলাকুলিসহ সালাম ও শুভেচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেয়।সমাজের ধনী ও সক্ষম ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট হারে গরিবদের ফিতরা বা শর্তহীন অনুদান বিতরণ করে থাকে যা ধর্মীয় দিক থেকে ধনীদের জন্য বাধ্যতামূলক।

সর্বপ্রথম ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয় ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে মদীনা মনওয়ারায়। ২০১৮ সালে পৌঁছে ঈদ-উল-ফিতরের বয়স হলো ১৩৯৪ বছর।সালের হিসাব নিয়ে দ্বিমতের অবকাশ রয়েছে, কারন এই উৎসবের কীভাবে উদ্ভব হয়েছে তার ইতিহাস ও তথ্য সঠিকভাবে জানা যায়নি।তবে নানা ইতিহাস ঘেঁটে যা তথ্য ও সুত্র পাওয়া গেছে সেটারই উল্লেখ করা হোল।

ভারতে রোজা পালন এবং ঈদ-উল-ফিতর বা ঈদ-উল-আজহা পালনের সুত্রপাত মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া থেকে ধর্মপ্রচারের জন্য আসা মুসলিম সুফি,দরবেশ আর তুর্ক ও আরব বনিকদের হাত ধরে। এরাই এদেশে  নামাজ, রোজা ও ঈদোৎসবের প্রচলন শুরু করে। যা ভারতবর্ষ মুসলিম শাসনের অধীনে আসার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

একবিংশ’র পক্ষ থেকে দুনিয়ার সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই। সকলের জীবনে সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *