“আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও,”লিখেছেন-দেবাশীষ সিং

indian diwaliএখন তো বড় বড় শহরে যেখানে সেখানে বিলাসিতার,স্বপ্নীল রাত,আকাশচুম্বি দালানের পাদদেশে কান্নার গোঙানি, ভুখ কেড়ে নেয় প্রাণ, আর যেখানে সেখানে সৌন্দর্যের পূজা হয়।বাজে সভ্যতার জয়ধ্বনি। এ সভ্যতা, যে সভ্যতা নয় এ যে নিস্তেজ বিবেকের গোঙানি। আজ দীপাবলী। সকাল থেকেই চারদিক থেকে ভেসে আসা ঢাকের শব্দ জানান দিচ্ছে যে উৎসবের প্রস্তুতি পর্ব শেষ এবার শুরু হওয়ার পালা। সকলের মত আমিও প্রমাদ গুনছি কখন দিন গিয়ে রাত আসবে আর রং বেরং এর প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে আমার শহর গঙ্গারামপুর। না আর তর সইছে না। মনে হচ্ছে আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত তাহলে আজ দীপাবলীর দিন পুরোটাই রাত করে দিতাম। তাহলে উৎসব উদযাপনের সময়ের পরিধি আরো দীর্ঘ হত, আরো বেশিক্ষণ ধরে আনন্দ করা যেত। আর আনন্দর সময় যদি বেশি হয় তাহলে তা কার না ভালো লাগে। তবে এক এক সময় আবার মনে হচ্ছে রাতটা এলেই তো হুশ করে চলে যাবে। তার চেয়ে বরং আসছে আসছেই ভালো। অদ্ভুত ব্যাপার আনন্দ আর দুঃখের মিশেলে যেন দীপাবলী প্রতিবার আমাদের মধ্যে হাজির হয়। আসলে এটাই তো উৎসবের শেষ, আর কিছুই নেই। আগেই বলেছি যে আমরা বাঙালিরা একটু বেশি করেই জীবনে বৈচিত্র্য চাই ,যা মেটায় এই উৎসবগুলি। শারদীয়ার পর দীপাবলীও আমাদের কাছে কোনো অংশে কম প্রিয় নয়। দীপাবলী মানেই চারদিকে রং- বেরং এর বাজি, রঙিন আলো আর নানা ধরনের শব্দ বাজি। সমগ্র দীপাবলী জুড়ে এই থাকে গঙ্গারামপুরে প্রাথমিক চিত্র। শহরের অলিতে- গলিতে, পাড়ায়-পাড়ায় অসংখ্য ছোটো বড় কালীপূজো হয়।

kalipuja

বাড়িতেই বা কোনো বন্ধুর বাড়ির ছাদে আমরা সবাই মিলে একসাথে বাজি পুড়িয়ে এই উৎসব উদযাপন করি। সবার মত আমিও এই পুজোয় বন্ধুদের সাথে বাজি ফাটাই। একটা কথা একটু গোপনেই বলে রাখি যে আমি শব্দবাজি বেশি ফাটাই। ছোটো খাটো একটা বিরিয়ানির ফিস্টও হয়ে যায়। সব মিলিয়ে খুব মজা করি। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না। ইতিমধ্যেই সব প্ল্যান করা হয়ে গেছে। এখন শুধু কালীপুজোর রাতটা আসার অপেক্ষা। তবে মজা যে খুব হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি তো খুব ভালো ভাবে দীপাবলী কাটাবই আর চাই আমার পরিচিত সকলেরও দীপাবলী যেন খুব ভালো কাটে। দেখা যাক কি হয়। আসল কথা বাচ্চা আর বয়স্কদের কাছে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা প্রিয় হলেও আমাদের মত টিন এজ পেরনোদের জন্য আড্ডাটাই বেস্ট। তাইতো আমি সব সময় বলি 3 CHEERS FOR পুজোর আড্ডা HIP HIP HURRAY।  দীপাবলীতে একটা জিনিস আমাদের একটু মাথায় রাখতে হবে-আগুন থেকে সাবধানে থেকে আনন্দ করতে হবে। এছাড়াও আমার অতিরিক্ত উচ্ছাস যেন অন্য কারো দুঃখের কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এগুলো মাথায় রেখে LET’S ENJOY… HAPPY DIWALI TO ALL।

unnamed

Debasish Singh

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *