“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী”–দেবাশীষ রাজপুত

PicsArt_02-21-01.04.34“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী”, 

আমি কি ভুলিতে পারি…?
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়ায়ে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি
জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী
দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে তবু তোরা পার পাবি?
না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।
সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে;
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকনন্দা যেন,
এমন সময় ঝড় এলো এক ঝড় এলো খ্যাপা বুনো।
সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবীকে রোখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে
ওরা এদেশের নয়,
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।
তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী
আমার শহীদ ভায়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাটে
দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালবো ফেব্রুয়ারি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।***]
International Mother Language Day একুশ আমাদের গৌরব, একুশ আমাদের অহংকার। মহান ভাষা শহীদদের অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা বিশ্ব দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙ্গালী জাতির জন্য অমর এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষের মাতৃভাষায় কথা বলা অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ভাষাকে নিয়ে মানুষের হৃদয় লালিত পালিত ও বিকশিত, ভাষার জন্য বলা যায় মানুষ আজ সভ্য আজ এত উন্নত এবং সৃস্টির সেরা জীব। ভাষাই মানুষকে দিয়েছে মনের ভাব প্রকাশ করার, ভাল মন্দ প্রকাশ করার শক্তি যা আমাদের করেছে সামাজিক এবং সেই সাথে করেছে একে অন্যয়ের সহায়ক। মা, মাতৃভাষার সাথে নাড়ির টান ও সর্ম্পক অবিচ্ছেদ্য। আমরা বাঙালি ,বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বিশ্বের প্রায় ৩০কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। মাইকেল, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনান্দ, শরতচন্দ্র সহ অসংখ্য সাহিত্যকর্মী ও ভাষাপ্রেমী মনীষীর কর্মপ্রয়াসে বাংলা ভাষা উন্নীত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানে। এই দিনে মানুষ ভাষার জন্য প্রান দিয়েছে, পৃথিবীর আর কোন ভাষার নেই এই রকম সন্মানজনক ইতিহাস, সেই একুশে ফেব্রুয়ারী আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আমাদের যা ভাল তা আমরা সবার সাথে ভাগ করে নিয়েছি, সবার সাথে এক কাতারে দাড়িয়েছি, এতে আমাদের সন্মান বেড়েছে, এরকম একটি আন্তর্জাতিক সন্মানের ধারক যে ভাষা তার দায়িত্বও যে অনেক, শুধু নিজের ভাষাকে ভালবাসলেই তা শেষ হবে না অন্য ভাষাকেও দিতে হবে মর্যাদা, ভাষাগত সংমিশ্রনে ভাষাও সমৃদ্ধ হয়, ভাষার শব্দ ভাণ্ডারে তৎসম, তদ্ভব ও বিদেশী শব্দের ব্যাবহার থেকেই এটি বোঝা যায়। বুকে বাংলা ভাষার জন্য অনাবিল ভালোবাসা নিয়ে তাই মিশে যেতে হবে ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বজনীন আসরে। বিশ্ব সাহিত্যের যে বিপুল ভাণ্ডার রয়েছে, বাংলা সাহিত্যতার সংমিশ্রনে এলে সম্ভব পারস্পরিক সমৃদ্ধি। বাংলা সাহিত্যের সব বড় বড় লেখকরাই বিশ্ব সাহিত্যের খুব ভালো পাঠক ছিলেন। তাই অন্য ভাষা চর্চা বা ভাষাগত সংমিশ্রণে লাভ বই ক্ষতি সাধন করে না যদি নিজের মূল্যবোধ ঠিক থাকে, কেউ কেউ আছেন নিজের ভাষাকে ঘৃণা করে অন্যের কোলে গিয়ে উঠেন, এরা দিকভ্রান্ত, যদি এদের ভেতর খাটি মানুষ থাকে, সাময়িক দিকভ্রান্ত হয় তবে একসময় মাইকেলের মত ঠিকই নিজের মায়ের কাছে ফিরে আসবে অন্যথায় তার কাজের ফল সে পাবে এতে ভাষার কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। এদের কথা ভেবে ভাষাগত সংমিশ্রনে বাঁধা দেওয়ার পক্ষপাতী আমি নই। আমি সব রঙে নিজেকে রাঙাতে চাই, সমৃদ্ধ হতে চাই সব নক্ষত্রের আলোয়। নিরক্ষর মানেই ভাষাহীন নয় মুর্খের ভাষা জ্ঞান থাকেনা। শিক্ষার জন্য আজ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, ভাষা শিক্ষার জন্য প্রয়োজন পরিবার।
0

দেবাশীষ রাজপুত

Attachments area

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *