“আমরা অসুর জাতি—পুরোহিত মানি না”(শেষ পর্ব)।উমেশ শর্মা

maxresdefaultশাস্ত্রে আসুরিক বিবাহের কথা জানা যায়।বলপূর্বক বিবাহকে কারা প্রথম আসুরিক বিবাহ বলে অবিহিত করেছিলেন সেটা পন্ডিতেরা বিচার করবেন।আমরা আলোচ্য অসুর পরিবারের বিবাহ রীতির ওপর কিছুটা আলোকপাত করব।

বর বা কনে পছন্দ হলেই উভয়পক্ষ বিয়ের তোরজোড় শুরু করে দেয়।চৈত্র ও ভাদ্র মাস বাদে যে কোন মাসে বিয়ে হতে পারে।আগে কন্যাপন দেওয়া হতো এখন কনে পন বাবদ ১২৫ টাকা ধরে দেওয়া হয়ে থাকে।কনের ভাই থাকলে তাকে ধুতি,কনের মা’কে ‘গু ফেলানি’ বাবদ শাড়ি এবং বাবাকে ধুতি দিতে হয়।বিয়েতে ব্রাম্ভ্রন ও নাপিতের কোন স্থান নেই।অসুর সমাজের বয়স্ক ব্যক্তিরাই সে ভুমিকা পালন করে।অবিবাহিত ছেলে মেয়েরা বিয়ের সময় উপস্থিত থাকতে পারে না।

বর ধুতি,জামা,পাগড়ি পরে কাঁধে নেবে কলসি ঝোলানো বাক,একটা কলসিতে থাকবে হাড়িয়া অন্য কলসিতে থাকবে জল।সে ভাঁড় নিয়ে বর বিয়ের আসরে উপস্থিত বয়স্কদের মাঝে থাকা কনের চারপাশে ঘুরতে থাকবে।পাঁচবার প্রদক্ষিণ করার পর বর সেই ভাঁড় নামিয়ে আসরে বসবে।বয়স্করা উভয় পক্ষের সম্মতি শুনে বর ও কনের মাথায় জল ছিটিয়ে বিয়ে দেবেন।বর কনের সিঁথিতে ও কপালে সিঁদুর দান করবে।শাঁখা পরানোর রীতি নেই।বিয়েতে কোন মন্ত্রোচ্চারণ নেই,শুধুই পারস্পরিক ও সামাজিক স্বীকৃতি;ভক্তি,শ্রদ্ধা ও আশীর্বাদ।পাঁঠা,শুয়োর,মাছ উপহার দিতে হবে ছেলেকে।দিতে হবে হাড়িয়া।ওদের বিশ্বাস,হাড়িয়া মনের অর্থাৎ চিত্তের শুদ্ধি ঘটায়।মেয়ের বাড়িতে বিয়ে হওয়ার পরের দিন বরযাত্রীরা বর ও কনেকে নিয়ে ছেলের বাড়িতে সকালেই চলে আসে।সেখানে হবে বৌভাত।বৌভাতে মাছ,শুয়োর,পাঁঠার মাংসের সঙ্গে থাকবে পর্যাপ্ত হাড়িয়া।উৎসবে আনন্দে সম্পূর্ণ হবে বিবাহ।

কেউ মারা গেলে অসুরেরা মৃতের শব দাহ করে না।নদীর পাড়ে কিংবা জঙ্গলের কোন উঁচু জায়গায় কবর দিয়ে দেয়।কবরস্থ করে মৃতের পুত্র।কবর দেওয়ার পর স্নান সেরে নতুন কাপড় পরে।ব্রাম্ভ্রন্য রীতিতে নয়।কোন বয়স্ক পরিজন এসে প্রথমে পুত্র এবং পরে পরিজনদের মস্তক মুণ্ডন করে দেয়।অশৌচকালীন অবস্থায় নিরামিষ ভোজনের রীতি।সিদ্ধ খাওয়াই নিয়ম।নুন খেতে পারবে না।মস্তক মুণ্ডন করে,সমাজের দশজনের কাছে অশৌচ থেকে উদ্ধারের জন্য প্রায়শ্চিত্ত স্বরুপ শুয়োর,হাড়িয়া দানের প্রতিশ্রুতি দেয়।এরপর সকলে একত্রে পান-ভোজনের পর পতিতকে উদ্ধার করে সংসার ধর্ম পালনের অনুমতি দিয়ে থাকে।

এভাবে অসুর সমাজ তাদের নিজস্ব সমাজে উদ্ধার পেলেও বৃহত্তর সমাজে তাদের কতদিন সম-মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে,শিক্ষা প্রগতি কল্যানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে,কবে বিদ্যুৎ এসে অসুর সমাজকে আলোকিত করবে সেদিকেই চেয়ে আছে সমাজের একটা বৃহৎ অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *