“গান্ধিবাদী কথাসাহিত্যিক তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়”

kobid_120618614254144088782a42.35637044_xlargeফিচার টেবিলঃ বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পলেখক তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়ের আজ  জন্মদিন।চিরস্মরণীয় কিছু উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধ লিখে তিনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।১৮৯৮ সালের ২৪ জুলাই  তিনি বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।লাভপুরের যাদবলাল হাই স্কুল থেকে ১৯১৬সালে এন্ট্রান্স (প্রবেশিকা) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথমে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে এবং পরে সাউথ সুবার্বন কলেজ, বর্তমানে আশুতোষ কলেজে ভর্তি হন। ছাত্র অবস্থা থেকে রাজনৈতিক কার্যকলাপের যুক্ত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অবধি পড়াশোনা হয়নি।

যুবাবস্থায় জড়িয়ে পড়েন গান্ধীজির ডাকা অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে৷ তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন গান্ধীবাদী  কংগ্রেসম্যান। আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি গ্রেফতার হন এবং কিছুদিন জেলও খাটেন।কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর সাহিত্য চর্চার প্রকাশ ঘটে। সেখানেই তিনি লেখা শুরু করেন ‘পাষাণপুরী’ আর ‘চৈতালী ঘূর্ণি’।

পরবর্তীকালে সক্রিয় রাজনীতি সরে এসে পরিপূর্ণভাবে  লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন৷
১৯২৯ সাল থেকে ৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর কালজয়ী উপন্যাসগুলো রচনা করেছিলেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চৈতালী ঘূর্ণি’ ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। এর পর ক্রমান্বয়ে তিনি রচনা করেন ‘রায় কমল’ (১৯৩৫),  ‘ধাত্রীদেবতা’ (১৯৩৯), ‘কালিন্দী’ (১৯৩৯), ‘কবি’ (১৯৪২), ‘গণদেবতা’ (১৯৪৩), ‘পঞ্চগ্রাম’ (১৯৪৪), ‘মন্বন্তর’ (১৯৪৪), ‘সন্দীপন পাঠশালা’ (১৯৪৬), ‘ঝড় ও ঝরাপাতা’ (১৯৪৬), আর ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ (১৯৪৬-৪৭)৷

বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের লোকেরা তার লেখায় বিশেষ ভাবে স্থান পেয়েছে।সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন চিত্র তাঁর গল্প ও উপন্যাসের বিষয়। সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার, অজয় কর ইত্যাদি চলচ্চিত্র  পরিচালকরা তারাশঙ্করের বহু উপন্যাসের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন৷ ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পের বই, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণকাহিনি নিয়ে তার অমর সাহিত্য সৃষ্টি।

বিংশ শতাব্দীর এই লেখকের ঝুলিতে রয়েছে রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং পদ্মভূষণ খেতাব। তিনি ১৯৭০ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন৷

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫২ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিধান পরিষদের সদস্য হন৷ ১৯৬০ সালে তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করে পাঠান হয়৷১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এই সাহিত্যিকের জীবনাবসান হয়৷

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *