“অপরাধীর পেছনে” লিখেছেন,প্রাক্তন পুলিশ কর্তা বিভূতি চক্রবর্তী

416156-jail-dnaশুধুমাত্র তৎপরতা বা ‘পুলিশ-কুকুরের’কেরামতি নয়।নয় কোন আধুনিক
বিশেষজ্ঞের অমূল্য সহায়তা।শুধুমাত্র তদন্তকার্যে তৎপরতার সাহায্যেও
কি করে  চমৎকারভাবে অপরাধীদের পাকড়ানো সম্ভব,এ হলো সে রকম রোমাঞ্চকর অভিযানের একটি কাহিনী।
রাত তখন দুটো।শান্ত পৃথিবী ঘুমিয়ে রয়েছে ধূসর দিগন্তের সবুজ আঁচলে। চরাচর নিস্তব্দ,নিঃঝুম।আমার দুচোখে ঘুম নেই। বারান্দায় সেন্ট্রি
থানা পাহারা দিচ্ছে। বাইরে, বাজারের দিকে শোনা যাচ্ছে ‘নাইট পেট্রল পার্টির কলরব। মাঝে মাঝে দু’একটা রাতজাগা পাখীর বিচিত্র চিৎকার। শুধু আমার চোখেই ঘুম নেই। কেস ডায়েরীতে পাতার পর পাতা লিখে চলেছি আমি।তিনটা মোকদ্দমা শেষ করতে হবে আজ রাত্রির মধ্যেই। ঊর্দ্ধ্বতন অফিসারের চাপ আর ভালো লাগে না-কাজ আর কাজ,শুরু নেই,শেষ নেই- তবুও করে যেতে হবে। অধস্তন কর্মচারীদের সেন্টিমেন্ট বলে কোন পদার্থ আছে,এ তাঁদের কাছে একেবারেই অবিশ্বাস্য। অনেক কাজের চাপে ব্যতিব্যস্ত মন এক এক সময় ভাবে,তাঁদের ধারণা অধস্থন অফিসারদের জন্ম বুঝি শুধু অবিরাম কাজ করে যাওয়া আর অনবরত বকুনি খাওয়ার জন্যে।আর ‘পাবলিক’ও মনে করে,পুলিশের কাজ শুধু মানুষ পিটানো। ওঁদের কেউ যদি দেখতেন এসে আজকের পুলিশের জীবনের করুনতম দিক।প্রতিকূল পরিবেশে কি বন্ধুর পথ বেয়ে চলতে হয় পুলিশকে তার কর্মজীবনে,তবে হয়তো ওঁরা আপনা থেকেই এগিয়ে আসতেন পুলিশের সাহায্যকল্পে। কেন যে
বোঝেন না ওঁরা যে ওঁদের সাহায্যের জন্যই পুলিশকে ওঁদের সাহায্য করা প্রয়োজন।

আজকের সমস্যা আগেকার মতো কোন একজন বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়ে নয়,নয় কোন বিশেষ অপরাধী গোষ্ঠীকে নিয়ে-আজকের সমস্যা সমাজের অনেক স্তরেই বিস্তৃত। এই সমাজিক সমস্যাজড়িত জটিলতা দূর করা একা সাধ্যাতীত,তার জন্য জনসাধারনের সার্বিক সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
…..চ ল বে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *