অনুপ্রবেশ বদলে দেয়,দাড়িভিটের জন্ম হয়। দেবাশীষ পাইন

WhatsApp Image 2020-09-20 at 11.40.36 AMদাড়িভিট উচ্চ বিদ্যালয়টি উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার অন্তর্গত।১৯৯২ সালে পশ্চিম দিনাজপুর জেলা দু টুকরো করে উত্তর দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়, যার সম্পূর্ণ পূর্ব সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৮১ সালে এই জেলার  হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৬৩.২৬% এবং মুসলমান ৩৫.৭৯ %। ১৯৯২ সালের পরে, মাত্র একদশকের মধ্যে কমিউনিস্টরা এই জেলায় মুসলমান অনুপ্রবেশের বেনোজল ঢুকিয়ে, মুসলমান জনসংখ্যা ৯.৫% বাড়িয়ে দেয়। ফলে, ১৯৯১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫৪.২% এবং মুসলমান বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫.৩৫%।  ২০১১ সালের পর দিদির দয়ায় উত্তর দিনাজপুর মুসলমান প্রধান জেলা হয়ে যায়। উত্তর দিনাজপুর শহরে হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত ভালো হলেও জেলার অন্তর্ভুক্ত গ্রামগুলিতে ভয়ঙ্কর পরিনতি দেখা দেয় ২০১৮ সাল থেকে। ভারত সরকারের জনগননা সুত্র আনুজায়ী ১০ বছর অন্তর উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি চিত্র তুলে ধরছি। ১৯৮১-১৯৯১ এবং ২০০১-২০১১,হিন্দু % ৬৩.২৬-৫৪.২০ এবং ৫১.৭২- ৪৯.৩১ উল্টোদিকে ক্রমবর্ধমান মুসলমান % ৩৫.৭৯-৪৫.৩৫ এবং ৪৭.৩৬ ৪৯.৯২।

চর্চিত দাড়িভিট স্কুলটি ইসলামপুর মহকুমায় এবং বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে।পরিবেষ অনুমান করে নিতে অসুবিধে হাওয়ার কথা নয়। ইসলামপুর শহরে হিন্দু জনসংখ্যা ৬৭% কিন্তু গ্রামাঞ্চলে হিন্দু জনসংখ্যা মাত্র ২৭% আর দাড়িভিট স্কুলটি গ্রামেই। দেদার অনুপ্রবেশের কল্যানে এই গ্রামগুলিতে কি পর্যায়ের মৌলবাদী সন্ত্রাস কায়েম থাকতে পারে আন্দাজ করে নিন।

দাড়িভিটের গ্রামবাসীদের সম্মিলিত অগ্নিশিখা জ্বালিয়েছিল ভাষা আন্দোলনের আর প্রানের বিনিময়ে রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মণ তার সার্থক রুপ দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ তার নিজস্ব ভাষা আন্দোলনের প্রজ্বলিত মশাল হাতে পেয়েছিল। ইসলামি মৌলবাদী দাপটের বিরুদ্ধে, সংখ্যালঘু বাঙ্গালি হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীরা উর্দু ভাষার আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে বাংলাভাষায় শিক্ষকের জন্য, বিজ্ঞান পঠনপাঠনের জন্য প্রাণ দিলেন রাজেশ, তাপস। শুধু বাংলা ভাষাকে উর্দু ভাষা দিয়ে আক্রমন, বিষয়টিকে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, আরও গভীরে যেতে হবে যেখানে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি মৌলবাদের আক্রমণাত্মক নীতি। কিন্তু অত্যন্ত ক্ষেদের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমরা হিন্দু বাঙ্গালিরা ঐ দুজন ভাষা আন্দোলনের শহীদকে তাদের আত্মত্যাগের সঠিক মর্যাদা দিতে পারলাম কই?  বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে যে সুবর্ণ সুযোগ রাজেশ ও তাপসের বলিদান বাঙ্গালির সামনে এনে দিয়েছিল তার উপযুক্ত ব্যবহার আমরা করতে পারলাম না।এখনও সময় শেষ হয়ে যায় নি, রাজেশ, তাপসের বলিদানের অশ্রুকে মনের আগুনে পরিবর্তিত করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচার ও জন আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে জায়গা করে নিতে হবে।পাড়ায় পাড়ায় ২১শের ভাষা আন্দোলনের আদিখ্যেতা না দেখিয়ে ২০শে সেপ্টেম্বর স্মারক তৈরি করে মাতৃভাষা দিবস পালন করার প্রয়োজন আছে। দাড়িভিটের ঘটনাকে আলোকদিশা করে শুরু হোক সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর মাদ্রাসা বন্ধের আন্দোলন।অতি শীঘ্র যদি পশ্চিমবঙ্গে নিজস্ব ভাষা আন্দোলনের জন্ম দিতে না পারলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গকে যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পশ্চিম বাংলাদেশে পরিবর্তিত করার চক্রান্ত চলছে, সেটা ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। আর ডঃ শ্যামাপ্রশাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান, স্বপ্ন, সব জলাঞ্জলি যাবে।

দেবাশীষ পাইন

দেবাশীষ পাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *