অগ্নিযুগের মহাবিপ্লবী ‘রাশবিহারী বসু’

boseফিচার ডেস্কঃ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বিপ্লবী রাসবিহারী বসু। তিনি ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ভারতের বাইরে জাপানে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্ণর জেনারেল এবং ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে বোমা হামলা করে মারার প্রচেষ্টার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।এছাড়া গদর ষড়যন্ত্রের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। ভারতের সেনাবাহিনীতে বিপ্লবীদের অনুপ্রবেশ করিয়ে ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে সমগ্র ভারতব্যাপী একটি বিদ্রোহ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের সুবলদহ গ্রামে রাসবিহারী বসু জন্মগ্রহন করেন।তিনি ছিলেন মানবদরদী ও সমাজহিতৈষী মানুষ। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের নানাভাবে তিনি সহযোগিতা করতেন।

বিপ্লববাদী রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকে তিনি নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯০৮ সালে আলীপুর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করে কারাগারে আটকে রাখে ব্রিটিশ সরকার। কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি দেরাদুনে যান। সেখানে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। দেরাদুনে তিনি গোপনে বাংলা, উত্তর-প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। বহু বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ব্রিটিশ সরকার তাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। ১৯১১ সালের ১০ অক্টোবর রাসবিহারী বসু নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে ব্রিটিশ বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা নিক্ষেপ করেন। এই বোমা হামলা চালিয়ে রাতের ট্রেন ধরে নিজের কর্মস্থল দেরাদুনে ফিরে আসেন। নির্বিকার ভাবে পরদিন নিয়মিত অফিস করেন। কিন্তু একটা পর্যায়  ব্রিটিশ গোয়েন্দার নজরদারি  থেকে মুক্ত থাকার জন্য তিনি আত্মগোপন করতে বাধ্য হন।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তিনি জাপানে যান। ১৯২০ সালে জাপানের এক মেয়েকে বিয়ে করার সুবাদে তিনি নাগরিকত্ব লাভ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাঁর কারণে জাপান সরকার ভারতীয়দের পাশে দাঁড়ায়। জাপান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় সমর্থন দেয় এবং সহযোগিতা করে। তাঁর ডাকে টোকিওতে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি হন রাসবিহারি বসু। এই সম্মেলনে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সেই সম্মেলনে একটি সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন। ওই সম্মেলনে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীনে আজাদ হিন্দ সরকার গঠিত হলে রাসবিহারী বসু সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। ১৯৪২ সালের ২২ জুন ব্যাংককে তিনি লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন। সেই সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র বসুকে লীগে যোগদান  এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেসব ভারতীয় যুদ্ধবন্দি মালয় ও বার্মা ফ্রন্টে জাপানিদের হাতে আটক হয়েছিল তাদেরকে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগে ও লীগের সশস্ত্রশাখা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে যোগদানে উৎসাহিত করা হয়। রাসবিহারী বসুর প্রারম্ভিক সাংগঠনিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে সুভাষচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি( আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও পরিচিত) গঠন করেন। মৃত্যুর পূর্বে রাসবিহারী বসুকে জাপান সরকার সম্মানসূচক ‘সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান’ খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি রাসবিহারি বসু মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *